Posts

টুকরো টুকরো কথা

  একটি শিশুহত্যা হল শুধু সে রুটি চুরি করেছিল খুনির দল একে একে সব বাড়ি ফিরে গেল কারন তাদের সবার ছেলেমেয়ে আছে ভরপেট না খেয়েও তারা রাজকর দিচ্ছে শিশুটি কি দোষ করল? রাস্তা দিয়ে পিপড়ের মত মিছিল মানুষ পিটিয়ে মারার সময় কেন এত চোখ বুজে? কোথায় তার অস্তিত্বের সংকট কোথায় তার সমষ্টির সংকট কখন সে খুনি জল্লাদ কখন সে বুক চাপরে বরবাদ আমি দেখি মানুষ বেঁটে, আরও বেঁটে হয় রাষ্ট্রের সামনে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত এও দেখি সে কিং কং হয়ে কংসলীলা দেখিয়ে বেড়াচ্ছে শুধু সুযোগের আপেক্ষায় রাষ্ট্রের অপরাধ হলে মানবিকতা মেনে মৌনমিছিল বেরিয়েও রাষ্ট্রের চৌকাঠের এক ক্রোশ দূরে থেমে যায় পাঠক, ভাবুন মানুষ কতটা হেটেরো স্যাপিএন্স হতে পারে এর সাথে এটাও ভাবুন এই মানুষেরা গণতন্ত্র করে কাকে আনতে পারে আরও বেশি করে ভাবুন একটা বাচ্চা মরে গেলে রাষ্ট্রের কি ছেঁড়া যায়। আর গণতন্ত্র যা কিনা একটি পলিটিকাল ব্যান্ডপার্টি তার কোন কোন জায়গা চুলকে ওঠে। সন্দীপ চক্রবর্তী কলকাতা ২২/৭/২০১৬

Fernando

Midnight calls me every moment I come down to the road Silence throughout the building I touch your hair, your lips You embed millions of grenades I smell the gunpowder you have preserved for long Corpses are burning and the smoke envelops me Few dogs are my scavenger poems I put the pages one by one into the flame Corpses set the pages free I am walking down since the seventies Have seen decapitated faces But I will protect you from these paper tigers You are gripping the banner The moon becomes a sharp sickle Silence! Mayakovsky has taken the floor. I read carefully each assignment of the dead ones The moon is not happy, stars too Corpses are burning and the guitar is played amidst tears The revisionist ones have opened their shops of religion You have given me the trigger and a knife I am making the knife sharper in the fire of corpses I love you, my dear girl   I will do the job when the fire will be blue I touch your forehead, yo...
  বিয়াস কে আমি ভালোবাসতাম আজ বিয়াসকে নিয়ে সারা দুপুর আমি সাইকেল চালিয়ে নিয়ে গেছি কুড়ি বছর আগের মতো । আমার ভেতরে কার্ল মার্ক্স ভেবে যায় নদীর প্রবহমানতা সনাতন না আপেক্ষিক এত বছর বাদেও তার রঙ পাল্টায়নি আমি আর ধানক্ষেতে যাবো না এই সত্যকে এতদিন আগলে রেখেছিলাম আজ আলের ধারে জড়পিন্ড দেহ জড়িয়ে ধরে আমি এক অদ্ভুৎ সুখ পেয়েছি আকাশজুড়ে তখন মার্ক শাগালের প্রেমিকারা আমার সাইকেলে চড়ে চলে যাচ্ছে চারপাশ গোধূলীর রঙে মাখা। কাল চার্বাক জিজ্ঞেস করবে নীলপাহাড়ের মতো চেতনার কোনো রঙ আছে কি না। সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর ২/৪/২০২৪
Image
 
  সারা রাত তিমিরবরণ হয়ে থাকে মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হলেও স্বপ্ন, অনুভূতিগুলো জ্বলে যায় না। ঘুরেফিরে ছাইয়ের মতো মাটিতে এসে পড়ে আমার ভেতরে অনেক মেঘ জমে আছে আমার বাবা মার মৃত্যুহীম বিয়োগ ক্রমে ক্রমে যোগ হয়ে যায় আমি তাদের শরীরের স্বাদ পাই খাঁচার ভেতরে অদৃশ্য ইমারত তারা আমার শরীরটাকে পেঁচিয়ে ধরে মন্ত্রমুগ্ধ আমি খাচাটাকে সম্বল করে ইথারের তরঙ্গে ফেননিভ ভাসতে থাকি শ্রীগুরু চরণ সরোজ রজ নিজ মন মুকুরু সুধারি অক্সিজেন চলাচল করে এই জন্মের লোহিত কণিকারা দৌড়ায় পঞ্চভূতের এই জাল আমাকে ছেঁকে নেয় সঠিক মাত্রায় ফোটানোর পরে যেমন চায়ের গন্ধ নাকে আসে। সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর ৭/২/২০২৪
  আমি লিখতে পারিনা মেঘ সরতেই তুমি এলে ঘরে। আমি লিখতে পারিনা কল্যাণীয়া "ডি": তোমার চিঠি বারবার পড়লাম। আমি রবীন্দ্রনাথের মতো রিএকশনারি অমিত রে নোই। এখনো উত্তর কলকাতার গলিগুলোতে ঢুকলে কাপড় কাচা সাবানের গন্ধে আমার গা গুলিয়ে ওঠে। এখনো আমি লাশগুলো গুনে উঠতে পারিনি। আমার দুআঙুলের ফাঁক দিয়ে হুহু করে পেরিয়ে যাচ্ছে সময় অথচ একটাও কবিতা তোমায় সমর্পন করতে পারলাম না। আমার সঞ্চয় সত্তরের দশকের একটি রিভলভার আর কিছু কার্তুজ। আমার অন্তঃকরণের চিৎকারের মধ্যেই ভারতবর্ষ রামরাজ্য হতে চলেছে। আমার শ্রমিকের দলগুলির মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মের আফিম। চেয়ারম্যান, আমি কিছু করতে পারছিনা, আমার পাঠকেরা আমার থেকেও জ্বরাগ্রস্ত। সুপর্ণারা একে একে আমার মতো ভীষণ একলা হয়ে যাচ্ছে। আমি এই ভন্ড, মেকি ধর্মের দেওয়াল ধ্বংস করবো, এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই চিতায় উঠবো। সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর ১/২/২০২৪
  আকাশের দিকে চিঠি লিখতে গিয়ে সেই চিঠি গিয়ে পড়লো মোদির কাছে এর পরেও নির্লজ্জের মতো লাল কেল্লা থেকে দেবে বক্তৃতা মুসলিম রাষ্ট্রের মতো রামরাজ্য তৈরী হয়েছে তন্দ্রার মধ্যে আমি ছটফট করে উঠি এ কোন ভারতবর্ষ নির্মিত হচ্ছে মনে পরে যায় স্তালিনকে কবরে পুঁতে দিচ্ছে ক্রুশ্চেভ, ব্রেজনেভ দাড়াও পথিকবর জন্ম যদি তব ভারতবর্ষে , একটু দাঁড়িয়ে দেখো তোমার স্বপ্নের চিঠিগুলো টয়লেট পেপারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে আমি ছুটে ছুটে যাচ্ছি শ্রীরামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের কাছে আমি যাচ্ছি ট্রটস্কির কাছে, মহামতি লেনিনের কাছে, মাওয়ের কাছে আমার বন্দুকে ভোরে দাও গুলি আমি এর প্রতিশোধ নেবো। ধর্ষিতা আমার প্রিয়তমা দেশ ধর্ষিতা ভারত মাতা কোথায় যাচ্ছি আমরা? সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর ২৮/১/২০২৪
Image
কত তাবড় তাবড় চলে গেলো  দেওয়ালে টিকটিকিটাও বলে গেলো  পৃথিবীর ভারকেন্দ্র গড়িয়ে গেলো  ডানদিক আরো স্ফীত হলো। আর আমার কোনো নেই অভিযোগ  আকাশে রামধনু শুধু যোগ ও বিয়োগ  টোনাটুনির আলো নিয়ে খেলছে জোনাকি  সুসানের হাত ধরে আমি শুয়ে থাকি  ভাবতরঙ্গে চোখের জলে দুলে চলে আলো  অদ্ভুত এই বীজগণিত আকাশভরা কালো  জীবনে এই প্রথম অদ্ভুৎ লজ্জা এলো  এ জীবনে উষ্ণতর যা কিছু ছিল  স্লোগানে স্লোগানে চীল ডানা ঝাপটালো  স্টেনসিল দিয়ে আঁকা যত রেড বুক  আজীবনের ছবি থাকলো লাল টুকটুক নীল নয়নের কোণে মাঠঘাট পেরিয়ে  আহ্বান চলে যায় ভরা ডুব দিয়ে  কবিতার গ্রাম দিয়ে শহর কে ঘেরো  বাণপ্রস্থের পথে আঃ কি গেরো  তবু মাঝিমাল্লা লাল সমুদ্র পেরিয়ে যায়   ধীরে ধীরে নেশা ভাঙে খালাসিটোলায়    কবিতার বই হাতড়ে আমি পদ্য খুঁজি  এই বেশ ভালো লাগে সারপ্লাস পুঁজি চারিদিকে গর্জায় হল্ট, ফায়ার  প্রেমহীন নদী পথে আসবে জোয়ার  তুমি আসবে বলে চঞ্চল রিভারবেড গান শুনিয়ে যায় সেই চেনা কমরেড।   সন্দীপ চক্রবর্তী  শ্রীরামপুর  ১৭/৭/২০...
  গোরস্থানে, হাইড্রেনের তলায় শুয়ে পড়ে আছো জেনেও অভ্যাসবশে, কুয়াশায় পা রাখি ঠুলি চোখে দেখি ক্রমশ দূরে আরো দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে কপালের রেখা তবু সুখ শর্করায় ডুবে থাকি আমার ইস্তেহার কবে কার্বন হয়ে গেছে তোমাকে যেদিন ঘরে এনেছিলাম অগ্নিসাক্ষী করে, ভেবেছি তুমি সর্বস্ব নুড়ি পাথর বিকিয়ে অশ্বত্থের ঝুড়ি হয়ে যাবে সেদিন তোমার আগ্নেয়াস্ত্রে হাত পড়েছিল আমি লাফিয়ে উঠেছিলাম নাগরদোলায় আজ বালির ভেতরে মুখ গুঁজে তৃষ্না নিয়ে আমি শোষক আমি আমার ভেতরে শুষে গেছি কথা ছিল কবিতার গ্রাম দিয়ে কবিতার শহর ঘেরার কবিতার হাইড্রোসিলে মলম লাগাতে গিয়ে ভাবি: অভ্যাসবশে, কুয়াশা কেটে গেলে দেখি শহরের চারটে বিকৃত পা আর জিভ কবিতার গ্রামে থাবা বসিয়ে গেছে। কাল হয়তো আমি গ্রাম থেকে ফেরার হবো গ্রামান্তরালে অভ্যাসবশে কুয়াশা থেকে চোখ তুলে দেখাটাও রিএকশনারি নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দীপ চক্রবর্তী।
Image
 আমি ও শঙ্খচীল   শঙ্খচীল এসে নেমেছে লাল ঝান্ডায় পীচরাস্তা সোজা চলে গাছে সমুদ্রের দিকে যেখানে লাল সূর্য ডুবছে একটু একটু করে আমারো তো সূর্য মাথার থেকে সরে গেছে পূবদিকে শুধু নিয়নের হাতছানি। ও বাবু! একবার আসবেন নাকি?এই জুঁইফুল আমি চিনিনা হাসপাতালের আলোগুলো সব নিভে গেলে যেমন পুলিশটা বেঞ্চে গা এলিয়ে দেয় আর আমি নিঃশব্দ পদচারণা করি... আমার প্রিয় সাথীরাও ঘুমিয়ে পড়েছে মৈথুনরত সমুদ্রের ধরে, খালাসিটোলায় আমি একা। আর শংখচীল আকাশ প্রদক্ষিণ করে অনাথ আশি, নব্বই সালের কথা ভাবছে তাও কি মানবজমি আবাদ করবে না কেউ? আমার বন্ধু কমরেড দেশ ছেড়ে চলে গেছে খোঁচর পুলিশ ডান্ডা রেখে খৈনি বানায় তবুও "শুধু কি পচনশীলতা? বীজও আছে। একবার ডেকে দেখো কমরেড বলে দুজনেও সংগঠন হতে পারে সংকটকালে" এখন শুধু আমি আর শংখচীল একা সমুদ্র তার সব ক্ষোভ উগরে দেয় হায় চীল, আমার চেম্বারে একটাই গুলি আছে আর আছে খসে পড়া কবিতাদির বাড়ি রাতে শূন্য, শুধু শূন্যের আকাশে দেখি মহাকাল আমি কি মুক্ত? দড়িটা আলগা হয়ে এলো? রাতের খাবার জেলের কোনে সরিয়ে রাখি সার্ত্রে বলেছিলো কলম রেখে পিস্তল নিতে আমি পিস্তল রেখে লিখছি, কালো কালিতে রিক্সাওয়ালাটা চুল্ল...

বুকের ভেতরে

 বুকের ভেতরে আছে  তোমরা টের পাও পাছে  ফোঁটা ফোঁটা ক্ষরণ  একা একা চিলের ছটফটানি  শরীরের ভেতরে জুড়িয়ে বায়ু  নিজেই নিজেকে বরণ  যেন চিরদিনের জমানো পরমায়ু  একটু একটু করে সঞ্চয়  আর বেহিসেবি জীবনে ক্ষয়  আমরণ  তরুমূলে যত প্রেম  সব দশ বাই দশ ফ্রেম  এখানে আনন্দ মানে মহাকাশে  এখানে গতি মানে চিদাকাশে  ধীরে ধীরে সুধাসিন্ধু তীরে  উন্নীত মুক্ত প্রাণ হৃদয়ের গভীরে। সন্দীপ চক্রবর্তী  ৩০-১০-২০২০, শ্রীরামপুর 

শুধু প্রেম ও অপ্রেম নয়

 শুধু প্রেম ও অপ্রেম নয় ------------------------------------------------ শুধু প্রেম ও অপ্রেম নয়  ভালোবাসি আকাশের প্রতিটি রেনুকায়  ভাবাবিষ্ট সাঁতরে চরণ ছুঁয়ে যায়  বুকের ওপর ঝরে এই ধূসর ডাঙায়  জগতে সেই কবিতার জয়  যা কোমল হতে হতে ক্ষয়- প্রাপ্ত রগে রগে দলছুটের ন্যায়  নিশান নিয়ে দিনের ওপারে বদলায়  এখানে আমার নিঃশ্বাস পরে থাকে  আবার যদি দেখা হয় বিশ্বাসের ডাকে  আজ থেকে কত দূরে নীরবতার গোধূলিবেলায়  যেসব প্রশ্ন লেখা হয়ে মাথার ভেতরে হেলাফেলায়  হারিয়ে যায়, একটি ঘড়ির গলিত অবস্থার  গিরগিটির মতো এক ব্যবস্থার  সৃষ্টি করে  আমি দেখি শিয়রে শিয়রে  একদিন এই পথভ্রষ্টতা জমাটবদ্ধ কবরে  কে রেখে যায় শব্দহীন, বর্ণহীন গহ্বরে  তোমার ও আমার বেঁচে থাকার স্পর্ধারে  সীমাহীন প্রেমের, অপ্রেমের পরে  যে রাস্তা হারিয়ে যেতে যেতে বলে দেয়  স্নায়ুর মজ্জার গভীরে তোমার আমার  ইন্দ্রজাল এখনো পশমের ভেতরের  বুনন এখনো সমাপ্ত হয়নি এখনো সমাপ্তিহীন চিরতরুণ পরিসরে  কোনো পরিচিত ষষ্ঠেন্দ্রিয় ডেকে ডেকে ...
  এখনো মন সহস্র চোখের ন্যায় সাঁতরে বেড়ায় জমাট লাল পাথরের মতো পশ্চিমে ডুবে যায় কেই বা আসে কে বা যায় সন্ধ্যার দিকে সাঁতরাতে নদীটির ওপর দিয়ে ট্রেনের যাত্রা গজরাতে গজরাতে এখনো পতাকা উড্ডীয়মান এখনই মাথার ভিতরে রক্তবর্ণের সজ্ঞান সবাই, নিউরোনগুলি পেঁচিয়ে চিৎকারে খানখান লিফলেটে, ধীরে বাম থেকে বাম আওয়াজে গতিবেগ বাড়িয়ে কমিয়ে এখনো মন চলমান সহস্র চোখের অগ্নিগর্ভ দৃষ্টি শান্তির ধারা জড়িয়ে ধরে যত অনাসৃষ্টি সারারাত ব্যাপী আকাশ কবিতার জঠরে এখনো শিশুর মতো ভালোবেসে, সন্ধ্যাশেষে কে স্টেনসিলে লিখে চলে মহানগরীর প্রতিটি দেয়ালে সহস্র চোখের মণি জ্যামিতির মতো একে অপরকে লেফট লেফট সহস্র নাম জপ করে দিকে দিকে লাল রঙের বিস্ফোরণে ক্রমাগত চোখেরা ঘূর্ণিপাকে আবির রঙের মুখ-উজ্জ্বল ছেলে আর মা এই বিশ্বরূপে প্রত্যেক কবিতা হয়ে ওঠে চিরন্তন ভোর এই অক্ষয় বিশ্বাসে সবুজ আরো সবুজ হয়ে ওঠে সারা রাত জেগে থাকার পর প্রিয় কমরেডের চিঠি , মুষ্ঠিবদ্ধ হাত সিংহের পরাক্রমে বলে, তোরা যতই যা কর, রাত্রি যাপনের পর মাকড়সার লালা থেকে আলোর জমাট সকালে শত কৃষকের মুষ্ঠিবদ্ধ হাত প্রতিরোধ গড়ে তোলে । সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর, ২২-০৯-২০২০

ইনকিলাব

  ইনকিলাব -------------------------------------------------------------------------- এত সব বিস্ময়ের সুর তানে তানে চূর্ণ হয়ে প্রভাতে জানিনা তুমি কেন বাস্পশকটের মতো হাপাতে হাপাতে একরাশ দম নিয়ে ছেড়ে দিয়ে অভ্যর্থনা জানালে আমি তোমাদের ছেড়ে কতদূরে যাবো মহাকালে হয়তো গণিতের চেয়েও অঢেল দূরত্ব বজায় রেখে তোমার আমার ইনকিলাব গাঢ় রঙের আবির মেখে অন্ধকার সমুদ্রতটে থেকে নক্ষত্রের ভস্ম রাঙা আলোকে ঘুরে ফেরা ফসফরাসের মতো- চূর্ণ থেকে আরো চূর্ণের দিকে জিয়নকাঠি দিয়ে ধবল বকের ন্যায় মায়েস্ত্রোর দুর্বিপাকে আরো কতদূর পেরোলে সন্ধ্যামাখা বায়ুর মিহি জ্যোৎস্নার টানে পথিক হয় ঘাসের ঘ্রাণে - যে যত বলুক এই পারাবার নক্ষত্রের জলে ভেজা ক্রন্দনময় চোখ, মিথেন পাথার ফেনিয়ে ফেনিয়ে যত অন্ধকার, যত ক্রান্তিকারী কালপুরুষ তরবারি অসীম অনন্তকাল হতে যত আহত হাত শূন্যে চিৎকারি কবিতার চিরকুট দিয়ে খোঁজ করা দিকশূন্যপুর কমরেডের পুরানো ঠিকানা, হয়তো বা একবালপুর! এখানে এখনো সীমাহীন দ্বন্দ্বে বাড়ি ঘরদোর মহাশূন্যের বেড়া ডিঙিয়ে, আরেক মহাশূন্যতার তরে তোমার আমার চোখ দেখাদেখি বছর কুড়ি পরে জ্যোৎস্নাভরা মেদুরতা আসে যায় জোনাকির থরেথরে এখানে তুমি ই...

বনবাস

বনবাস   আমিও একই দোষে দুষ্ট সুহাসিনী শর্করা অধিক সেবন করে ভাবি ব্রহ্মজ্ঞানী পিপিলিকার মতো এই প্রজন্ম গ্রাস করে বুকের স্পন্দন ওঠে নামে উপত্যকার গহ্বভরে তোমার আমার আর নয় বেশি, বড়ো বেশি ক্ষতি ক্ষয় তোমার ত্রিকোণমিতি মেনে তুমি বারবার আসো অচেনা যোগবিয়োগের দৃষ্টান্তস্বরূপ কক্ষপথে ভাসো চেনা বীজ -গণিতের সমাপ্তির নিশ্চয়তা জানি গ্রাম দিয়ে শহর ঘিরবে বলে তোমার আমার ছেলেরা গেছে বনে সচেতন সজ্ঞানে তবু কারণে অকারণে, আজও ছিন্নভিন্ন নাবিক ওই খালাসিটোলায় বুকের উপর মহাকাল নিয়ে নিদ্রাপথে যায় তখন অনেক কথা বলার থাকে- মহাশূন্যজুড়ে স্টেনসিল দিয়ে লেখা হয় অকুল পাথারে কমল সূর্যের যাত্রাকালে ইথারের ছায়াভরে চিন্তাতীত বসন্তের বজ্রপাত ঘটে যায় আকস্মিকতার তরে তারপর কোনো মুহূর্তে আমিও দোষদুষ্ট সুহাসিনী তোমার আমার ছেলে গেছে বনে, আমি জানি পানপাত্র পরে আছে লিকার ও লেকচার দমবন্ধ কালরাত্রে যদি এগিয়ে আসে নতুন কোনো ফিউচার তারই সন্ধ্যালোকে ক্যারিকেচার গর্ভচ্যুত হলো - অবশেষে বন্দুকের নল তাক করে বহু বেলুন ফাটালো। সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর ১৯/০৯/২০২০

কমরেড

 কমরেড   কমরেড এভাবেই কাশতে কাশতে  হৃদয় উজাড় করে থাকা সূর্যের গমকে   চিলের ডানার মতো যত কাশফুল  মেঠোপথে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চমকে চমকে  লুব্ধক থেকে সমকোণে স্বর্গে নরকে;  এভাবেই কাশতে কাশতে যত কাশফুলে   মাটির পথ ধরে রাস্তায় সরে সরে  আবার সেলাম করে  উতলা হয়ে স্বাতীর কেন্দ্রে ঘুরে ঘুরে  ঝরে গেলো সীমাহীন নক্ষত্রের জলে যেভাবে তুমি বলেছিলে আবার মাতবে  কালপুরুষের মতো সপ্তর্ষির প্রশ্নচিহ্নের তরে  আমার বুকের ভেতর কঙ্কালের মতো  সেই প্রশ্নের বান ছিল যত উজাড় করা  তার পিছু নিয়ে দৌড়েছি তোমার সুরে  যতটা কাঁটায় কাঁটায় ঠিক - অথবা  প্রতিবিম্ব; শুধু নীলের খেলায় ধুধু করা সবুজ প্রান্তরে  তোমার থেকে জাগ্রত ক্রীড়াময় অসীম  আমি শুনেছি অগুনতি, অন্তর্লীন  শুধু দ্বন্দ্বের অসংখ্য ধ্রুবকে লীলাময় হে কমরেড   একপা এগোতে গেলে কতশত দুইপা পিছোতে হয় !   সন্দীপ চক্রবর্তী, শ্রীরামপুর,  মহালয়া, ১৭/০৯/২০২০ 

অতিকায় কমলালেবু

অতিকায় কমলালেবু ১. যে কোনো অতিকায় কবিতায় সারা জীবন উজাড় করা কমলালেবুর  ঘ্রানে,  বয়েসের সাথে ক্রমানুপাতিক হারে -  আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি - তুমি এখনো  আমাকে স্মরণ করো কমলালেবুর সাদা তন্তুবাহে  যদিও প্রশ্নগুলি অনেক দূরে উত্থাপিত হয়  ২. এখানে বাজে করুন সুরে  আবার নতুন করে  মেনিফেস্টো লেখা হবে রাত্রির প্রহরে প্রহরে  তুমি আমি লিখে রাখি কত নিখুঁত শিয়রে  শরৎ ফিরে এসেছে সুষুম্না নাড়ীর ভিতরে  ৩, এখনো ওলোটপালোট আমি খুঁজতে থাকি  ক্যাপিটাল আর যা যা আছে বাকি  তোমাকে লেখা চিঠিগুলির আলো বাড়িয়ে কমিয়ে  এই হাইড্রা জীবনে আবার দেখা হবে নাকি এসময়ে আমি আরো মুগ্ধ হয়ে শিশুর মতো উষ্ণতায়, ভাবি  ব্যারিকেড ডিঙিয়ে গান গেয়ে যাবো  যে কোনো অতিকায় কবিতায় সারা জীবন উজাড় করা কমলালেবুর  ঘ্রানে। সন্দীপ চক্রবর্তী,  শ্রীরামপুর , ১৪-৯-২০২০     

এনাটমি ঝনঝন করে

  যখন এনাটমি ঝনঝন করে তালা দিয়ে দেয় সেন্ট্রি;  দিশাহারা পাখীর দল গরাদের যেটুকু অবশিষ্ট আলো নিয়ে সন্তুষ্ট থাকে  আমিও গা ভাসাই আকাশ থেকে কলসির একেকটা ছিদ্র সেলাই করে বাবুইবাসা আশ্রয় দেয় মহাজগতে - একপা এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে ভাবি কারাগারে কোনটা ডান কোনটা বাম হাওয়া উচিত ছিল। আমার হাতে মুঠো করে রাখা ছিল গানপাউডার ঝিরিঝিরি করে পড়ার সময় বুঝতে পারিনি লালঝান্ডায় ফুটো দিয়ে রুপালি চাঁদের কাস্তে ছিন্নমস্তার মতো তরল জ্যোৎস্না কাটতে কাটতে নিজের ঘরে ফিরে গেছে - আমাদের প্রশ্ন ছিল লিন পিয়াও না চৌএনলাই , আমাদের  হেসে ফিরিয়ে দিয়েছে ঝিম ধরা আদিম উপত্যকা। যে যতই ধ্যানস্থ হোন আত্মায়, জ্যোৎস্নায় খিলখিল করা হ্লাদিনীর সমীপে প্রাণবায়ু যাতায়াত করে চুপিসারে নিভৃতে। পঞ্চভূতের বস্তুবাদ শূন্য ও অসীমের মধ্যে দোদুল্যমান হয়, দুকূল ছাপিয়ে এই কুলাঙ্গারে  কখনো কখনো ভাবি ভাববাদ ও বস্তুবাদ কাটায় কাটায় এক হবে। সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর, ১১-০৯-২০২০

আমি যেটুকু পারি

 আমি যেটুকু পারি কুড়িয়ে কাচিয়ে  পেপারব্যাক এ আগুন জ্বালাই  আজকের ছাই মেখে জ্বলে  গত দশকের বিরহ বিদায়ে  যে যায় রক্ত করবীর গন্ধ মেখে নিয়ে  কত দূরে দাঁড়িয়ে আছে গাছ, মাইলস্টোন হয়ে রাস্তার ধারে অগুনতি লাল গাছ  ফুলগুলো ঝরিয়ে বোধিদ্রুম আজ  ন্যাড়া মাথা, তবুও বাদিক চলে চলে  নদীর বুকে রক্তাভ দ্রবণ হাওয়ার উড়ে এলে  তারপর শুভ্র বকের চলন নদীর সমান্তরালে  যতই না এগিয়ে যাক আকাশ যেখানে নীলে  নীলকন্ঠ হয়ে ভাবছে  কত সমীকরণ সমাধান হলে    জীবনে সঞ্চারপথ ধূমকেতুর মতন পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। সন্দীপ চক্রবর্তী  ১০-৯-২০২০ শ্রীরামপুর         

Myopia

Image