Posts

Image
কত তাবড় তাবড় চলে গেলো  দেওয়ালে টিকটিকিটাও বলে গেলো  পৃথিবীর ভারকেন্দ্র গড়িয়ে গেলো  ডানদিক আরো স্ফীত হলো। আর আমার কোনো নেই অভিযোগ  আকাশে রামধনু শুধু যোগ ও বিয়োগ  টোনাটুনির আলো নিয়ে খেলছে জোনাকি  সুসানের হাত ধরে আমি শুয়ে থাকি  ভাবতরঙ্গে চোখের জলে দুলে চলে আলো  অদ্ভুত এই বীজগণিত আকাশভরা কালো  জীবনে এই প্রথম অদ্ভুৎ লজ্জা এলো  এ জীবনে উষ্ণতর যা কিছু ছিল  স্লোগানে স্লোগানে চীল ডানা ঝাপটালো  স্টেনসিল দিয়ে আঁকা যত রেড বুক  আজীবনের ছবি থাকলো লাল টুকটুক নীল নয়নের কোণে মাঠঘাট পেরিয়ে  আহ্বান চলে যায় ভরা ডুব দিয়ে  কবিতার গ্রাম দিয়ে শহর কে ঘেরো  বাণপ্রস্থের পথে আঃ কি গেরো  তবু মাঝিমাল্লা লাল সমুদ্র পেরিয়ে যায়   ধীরে ধীরে নেশা ভাঙে খালাসিটোলায়    কবিতার বই হাতড়ে আমি পদ্য খুঁজি  এই বেশ ভালো লাগে সারপ্লাস পুঁজি চারিদিকে গর্জায় হল্ট, ফায়ার  প্রেমহীন নদী পথে আসবে জোয়ার  তুমি আসবে বলে চঞ্চল রিভারবেড গান শুনিয়ে যায় সেই চেনা কমরেড।   সন্দীপ চক্রবর্তী  শ্রীরামপুর  ১৭/৭/২০...
  গোরস্থানে, হাইড্রেনের তলায় শুয়ে পড়ে আছো জেনেও অভ্যাসবশে, কুয়াশায় পা রাখি ঠুলি চোখে দেখি ক্রমশ দূরে আরো দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে কপালের রেখা তবু সুখ শর্করায় ডুবে থাকি আমার ইস্তেহার কবে কার্বন হয়ে গেছে তোমাকে যেদিন ঘরে এনেছিলাম অগ্নিসাক্ষী করে, ভেবেছি তুমি সর্বস্ব নুড়ি পাথর বিকিয়ে অশ্বত্থের ঝুড়ি হয়ে যাবে সেদিন তোমার আগ্নেয়াস্ত্রে হাত পড়েছিল আমি লাফিয়ে উঠেছিলাম নাগরদোলায় আজ বালির ভেতরে মুখ গুঁজে তৃষ্না নিয়ে আমি শোষক আমি আমার ভেতরে শুষে গেছি কথা ছিল কবিতার গ্রাম দিয়ে কবিতার শহর ঘেরার কবিতার হাইড্রোসিলে মলম লাগাতে গিয়ে ভাবি: অভ্যাসবশে, কুয়াশা কেটে গেলে দেখি শহরের চারটে বিকৃত পা আর জিভ কবিতার গ্রামে থাবা বসিয়ে গেছে। কাল হয়তো আমি গ্রাম থেকে ফেরার হবো গ্রামান্তরালে অভ্যাসবশে কুয়াশা থেকে চোখ তুলে দেখাটাও রিএকশনারি নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দীপ চক্রবর্তী।
Image
 আমি ও শঙ্খচীল   শঙ্খচীল এসে নেমেছে লাল ঝান্ডায় পীচরাস্তা সোজা চলে গাছে সমুদ্রের দিকে যেখানে লাল সূর্য ডুবছে একটু একটু করে আমারো তো সূর্য মাথার থেকে সরে গেছে পূবদিকে শুধু নিয়নের হাতছানি। ও বাবু! একবার আসবেন নাকি?এই জুঁইফুল আমি চিনিনা হাসপাতালের আলোগুলো সব নিভে গেলে যেমন পুলিশটা বেঞ্চে গা এলিয়ে দেয় আর আমি নিঃশব্দ পদচারণা করি... আমার প্রিয় সাথীরাও ঘুমিয়ে পড়েছে মৈথুনরত সমুদ্রের ধরে, খালাসিটোলায় আমি একা। আর শংখচীল আকাশ প্রদক্ষিণ করে অনাথ আশি, নব্বই সালের কথা ভাবছে তাও কি মানবজমি আবাদ করবে না কেউ? আমার বন্ধু কমরেড দেশ ছেড়ে চলে গেছে খোঁচর পুলিশ ডান্ডা রেখে খৈনি বানায় তবুও "শুধু কি পচনশীলতা? বীজও আছে। একবার ডেকে দেখো কমরেড বলে দুজনেও সংগঠন হতে পারে সংকটকালে" এখন শুধু আমি আর শংখচীল একা সমুদ্র তার সব ক্ষোভ উগরে দেয় হায় চীল, আমার চেম্বারে একটাই গুলি আছে আর আছে খসে পড়া কবিতাদির বাড়ি রাতে শূন্য, শুধু শূন্যের আকাশে দেখি মহাকাল আমি কি মুক্ত? দড়িটা আলগা হয়ে এলো? রাতের খাবার জেলের কোনে সরিয়ে রাখি সার্ত্রে বলেছিলো কলম রেখে পিস্তল নিতে আমি পিস্তল রেখে লিখছি, কালো কালিতে রিক্সাওয়ালাটা চুল্ল...

বুকের ভেতরে

 বুকের ভেতরে আছে  তোমরা টের পাও পাছে  ফোঁটা ফোঁটা ক্ষরণ  একা একা চিলের ছটফটানি  শরীরের ভেতরে জুড়িয়ে বায়ু  নিজেই নিজেকে বরণ  যেন চিরদিনের জমানো পরমায়ু  একটু একটু করে সঞ্চয়  আর বেহিসেবি জীবনে ক্ষয়  আমরণ  তরুমূলে যত প্রেম  সব দশ বাই দশ ফ্রেম  এখানে আনন্দ মানে মহাকাশে  এখানে গতি মানে চিদাকাশে  ধীরে ধীরে সুধাসিন্ধু তীরে  উন্নীত মুক্ত প্রাণ হৃদয়ের গভীরে। সন্দীপ চক্রবর্তী  ৩০-১০-২০২০, শ্রীরামপুর 

শুধু প্রেম ও অপ্রেম নয়

 শুধু প্রেম ও অপ্রেম নয় ------------------------------------------------ শুধু প্রেম ও অপ্রেম নয়  ভালোবাসি আকাশের প্রতিটি রেনুকায়  ভাবাবিষ্ট সাঁতরে চরণ ছুঁয়ে যায়  বুকের ওপর ঝরে এই ধূসর ডাঙায়  জগতে সেই কবিতার জয়  যা কোমল হতে হতে ক্ষয়- প্রাপ্ত রগে রগে দলছুটের ন্যায়  নিশান নিয়ে দিনের ওপারে বদলায়  এখানে আমার নিঃশ্বাস পরে থাকে  আবার যদি দেখা হয় বিশ্বাসের ডাকে  আজ থেকে কত দূরে নীরবতার গোধূলিবেলায়  যেসব প্রশ্ন লেখা হয়ে মাথার ভেতরে হেলাফেলায়  হারিয়ে যায়, একটি ঘড়ির গলিত অবস্থার  গিরগিটির মতো এক ব্যবস্থার  সৃষ্টি করে  আমি দেখি শিয়রে শিয়রে  একদিন এই পথভ্রষ্টতা জমাটবদ্ধ কবরে  কে রেখে যায় শব্দহীন, বর্ণহীন গহ্বরে  তোমার ও আমার বেঁচে থাকার স্পর্ধারে  সীমাহীন প্রেমের, অপ্রেমের পরে  যে রাস্তা হারিয়ে যেতে যেতে বলে দেয়  স্নায়ুর মজ্জার গভীরে তোমার আমার  ইন্দ্রজাল এখনো পশমের ভেতরের  বুনন এখনো সমাপ্ত হয়নি এখনো সমাপ্তিহীন চিরতরুণ পরিসরে  কোনো পরিচিত ষষ্ঠেন্দ্রিয় ডেকে ডেকে ...
  এখনো মন সহস্র চোখের ন্যায় সাঁতরে বেড়ায় জমাট লাল পাথরের মতো পশ্চিমে ডুবে যায় কেই বা আসে কে বা যায় সন্ধ্যার দিকে সাঁতরাতে নদীটির ওপর দিয়ে ট্রেনের যাত্রা গজরাতে গজরাতে এখনো পতাকা উড্ডীয়মান এখনই মাথার ভিতরে রক্তবর্ণের সজ্ঞান সবাই, নিউরোনগুলি পেঁচিয়ে চিৎকারে খানখান লিফলেটে, ধীরে বাম থেকে বাম আওয়াজে গতিবেগ বাড়িয়ে কমিয়ে এখনো মন চলমান সহস্র চোখের অগ্নিগর্ভ দৃষ্টি শান্তির ধারা জড়িয়ে ধরে যত অনাসৃষ্টি সারারাত ব্যাপী আকাশ কবিতার জঠরে এখনো শিশুর মতো ভালোবেসে, সন্ধ্যাশেষে কে স্টেনসিলে লিখে চলে মহানগরীর প্রতিটি দেয়ালে সহস্র চোখের মণি জ্যামিতির মতো একে অপরকে লেফট লেফট সহস্র নাম জপ করে দিকে দিকে লাল রঙের বিস্ফোরণে ক্রমাগত চোখেরা ঘূর্ণিপাকে আবির রঙের মুখ-উজ্জ্বল ছেলে আর মা এই বিশ্বরূপে প্রত্যেক কবিতা হয়ে ওঠে চিরন্তন ভোর এই অক্ষয় বিশ্বাসে সবুজ আরো সবুজ হয়ে ওঠে সারা রাত জেগে থাকার পর প্রিয় কমরেডের চিঠি , মুষ্ঠিবদ্ধ হাত সিংহের পরাক্রমে বলে, তোরা যতই যা কর, রাত্রি যাপনের পর মাকড়সার লালা থেকে আলোর জমাট সকালে শত কৃষকের মুষ্ঠিবদ্ধ হাত প্রতিরোধ গড়ে তোলে । সন্দীপ চক্রবর্তী শ্রীরামপুর, ২২-০৯-২০২০

ইনকিলাব

  ইনকিলাব -------------------------------------------------------------------------- এত সব বিস্ময়ের সুর তানে তানে চূর্ণ হয়ে প্রভাতে জানিনা তুমি কেন বাস্পশকটের মতো হাপাতে হাপাতে একরাশ দম নিয়ে ছেড়ে দিয়ে অভ্যর্থনা জানালে আমি তোমাদের ছেড়ে কতদূরে যাবো মহাকালে হয়তো গণিতের চেয়েও অঢেল দূরত্ব বজায় রেখে তোমার আমার ইনকিলাব গাঢ় রঙের আবির মেখে অন্ধকার সমুদ্রতটে থেকে নক্ষত্রের ভস্ম রাঙা আলোকে ঘুরে ফেরা ফসফরাসের মতো- চূর্ণ থেকে আরো চূর্ণের দিকে জিয়নকাঠি দিয়ে ধবল বকের ন্যায় মায়েস্ত্রোর দুর্বিপাকে আরো কতদূর পেরোলে সন্ধ্যামাখা বায়ুর মিহি জ্যোৎস্নার টানে পথিক হয় ঘাসের ঘ্রাণে - যে যত বলুক এই পারাবার নক্ষত্রের জলে ভেজা ক্রন্দনময় চোখ, মিথেন পাথার ফেনিয়ে ফেনিয়ে যত অন্ধকার, যত ক্রান্তিকারী কালপুরুষ তরবারি অসীম অনন্তকাল হতে যত আহত হাত শূন্যে চিৎকারি কবিতার চিরকুট দিয়ে খোঁজ করা দিকশূন্যপুর কমরেডের পুরানো ঠিকানা, হয়তো বা একবালপুর! এখানে এখনো সীমাহীন দ্বন্দ্বে বাড়ি ঘরদোর মহাশূন্যের বেড়া ডিঙিয়ে, আরেক মহাশূন্যতার তরে তোমার আমার চোখ দেখাদেখি বছর কুড়ি পরে জ্যোৎস্নাভরা মেদুরতা আসে যায় জোনাকির থরেথরে এখানে তুমি ই...